মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ভাষা ও সংষ্কৃতি

মোহাম্মদ নজিবর রহমান, সাহিত্যরত্ন  (১৮৬০-১৯২৩)


তিনি ছিলেন একজন নামকরা ঐপন্যাসিক। তৎকালীন পাবনা জেলার শাহজাদুরের চরবেলতৈল গ্রামে তাঁর জন্ম। ঢাকার নর্মাল স্কুল থেকে পাস করে প্রথমে তিনি জলপাইগুড়ির একটি নীলকুঠিতে চাকরি করেন; পরে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে সিরাজগঞ্জের ভাঙ্গাবাড়ি মধ্য ইংরেজি বিদ্যালয়, সলঙ্গা মাইনর স্কুল ও রাজশাহী জুনিয়র মাদ্রাসায় চাকরি করেন। কিছুদিন তিনি ডাকঘরে পোষ্ট মাস্টারের দায়িত্বও পালন করেন। নজিবর রহমান ১৮৯২ সালে নিজ গ্রামে একটি মকতব স্থাপন করেন যা পরবর্তীকালে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। তিনি যখন সলঙ্গায় শিক্ষকতা করতেন তখন সেখানকার হিন্দু জমিদার গোহত্যা ও গোমাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ করলে তিনি তার প্রতিবাদ করেন, এর ফলে সে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়। নজিবর রহমান র (১৮৮০-১৯৩১) প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রতী হন। তাঁর প্রথম সামাজিক  আনোয়ারা (১৯১৪) লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হলো: প্রেমের সমাধি (১৯১৫), চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমণি (১৯১৭), পরিণাম (১৯১৮), গরীবের মেয়ে (১৯২৩), দুনিয়া আর চাইনা (১৯২৪) ও মেহেরুন্নিসা। বিলাতী বর্জন রহস্য (১৯০৪) ও সাহিত্য প্রসঙ্গ (১৯০৪) তাঁর অপর দুটি আলোচনা গ্রন্থ। নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন। ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রায়গঞ্জের হাটিকুমরুল গ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।

 

মোহাম্মদ বরকতুত্মল্লাহ (১৮৯৮-১৯৭৪)
লেখক, প্রবন্ধকার। ১৮৯৮ সালের ২ মার্চ তৎকালীণ পাবনা জেলার শাহজাদপুরের ঘোড়াশালে তাঁর জন্ম। তিনি শাহজাদপুর হাই স্কুল এবং রাজশাহী কলেজে অধ্যয়ন করেন। তারপর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  বি.এ (অনার্স, ১৯১৮) এবং প্রেসিডেন্সীকলেজ থেকে এম এ (দর্শন, ১৯২০) ও আইন পরীক্ষায় (১৯২২) পাস করেন। অতঃপর বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি চাকরিজীবনে প্রবেশ করে একে একে আয়কর অফিসার (১৯২৩), ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট (১৯২৪), ম্যাজিস্ট্রেট (১৯৩০), সাব-ডিভিশনাল অফিসার (১৯৩৬) এবং কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং- এ সহকারী সেক্রেটারী (১৯৪৪) হন। সিভিল সাপ্লাই  বিভাগেও তিনি কিছুদিন চাকরি করেন। পাকিস্তান হওয়ার পর তিনি ফরিদপুর, কুষ্টিয়া ও ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক (১৯৪৮-৫১) এবং পর্ব পাকিস্তান সরকারের ডেপুটি সেক্রেটারী (১৯৫১-৫৫) ছিলেন। অবসর গ্রহণের পর ১৯৫৫-৫৭ পর্যন্ত বাংলা একাডেমীতে তিনি বিশেষ কর্মকর্তা হিসেবে প্রথম পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। বরকতুল্লাহ সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করতেন। আধুনিক বাঙালি মুসলমান লেখকদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম দাশট্টনিক ভাবনাসমৃদ্ধ প্রবন্ধ রচনায় আত্ননিয়োগ করেন।  তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো :  পারস্য  প্রতিভা (২ খল্প ১৯২৪, ১৯৩২), মানুষের ধর্ম (১৯৩৪), কারবালা ও ইমামবংশের ইতিবৃত্ত (১৯৫৭), নয়া জাতির সৃষ্টা হযরত মুহম্মদ (১৯৬৩), বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ধারা (১৯৬৯) ইত্যাদি। দর্শনের বিভিন্ন দুরূহ বিষয় সাবলীল বাংলা গদ্যে প্রকাশ করে তিনি প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তিনি প্রবন্ধ সাহিত্যে বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬০), নয়া জাতির স্রষ্টা হযরত মুহম্মদ গ্রন্থের জন্য দাউদ পুরস্কার (১৯৬৩) লাভ করেন এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬২) পদক ও প্রেসিডেন্ট  এওয়ার্ড অফ পারফরমেন্স (১৯৭০) সম্মানে ভৃষিত হন। ১৯৭৪ সালের ২ নভেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।